২২ জানুয়ারি ২০১২ - ২০:৩০

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্টের কাছের এক সূত্র ঘোষণা করেছে যে, এদেশের প্রেসিডেন্ট ‘আলী আব্দুল্লাহ সালেহ’ সানয়া ত্যাগ করেছেন। কিন্তু এটা স্পষ্ট নয় যে, তিনি ‘ওমান’ গেছেন নাকি যুক্তরাষ্ট্রে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : ইয়েমেনের প্রেসিডেন্টের কাছের এক সূত্র গতকাল রবিবার এদেশের প্রেসিডেন্ট আলী আব্দুল্লাহ সালেহ’র সানয়া (ইয়েমেনের রাজধানী) ত্যাগের তথ্য দিয়েছেন।

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট তার বিদায় বক্তব্যের শেষে যুক্তরাষ্ট্রের গমনের কথা ঘোষণা দিয়ে তার দেশের জনগণের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কিছু কিছু সূত্র জানিয়েছে যে, তিনি ওমান গেছেন।

তিনি তার বক্তব্যে তার (দাবী অনুযায়ী) অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করে বলেন : অতি শীঘ্রই চিকিত্সার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের যাবেন অতঃপর ওমানে প্রত্যাবর্তন করবেন যাতে সেখান থেকে তার দলের নেতৃত্ব দিতে পারেন!!

ইয়েমেন সংসদ গত শনিবার সালেহকে দায়মুক্তি দিয়ে বিল পাস হওয়ার কথা ঘোষণা দিলেও বিপ্লবী জনতা সেটাকে গ্রহণ করেনি এবং হাজার হাজার জনগণ বিক্ষোভ পূর্বক সালেহ’র মৃত্যুদণ্ডের দাবী জানিয়েছে।

সংসদে পাস হওয়া ঐ বিলের ভিত্তিতে আব্দুল্লাহ সালেহ তার শাসনামলের ৩৩ বছরে কৃত সকল অপরাধ হতে মুক্তি লাভ করবেন।

আপডেট :

-আল আরাবিয়া চ্যানেল ঘোষণা করেছে যে, আলী আব্দুল্লাহ সালেহ’র সানয়া ত্যাগ ও অজ্ঞাত স্থানের উদ্দেশ্যে তার রওনা হওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রচারিত হয়েছে।

-আলী আব্দুল্লাহ সালেহ’র নেতৃত্বাধীন ইয়েমেনের ক্ষমতাসীন পার্টি ‘জেনারেল পিপল্‌স কংগ্রেস পার্টি’ (GPC) চিকিত্সার বাহানায় সালেহ’র বিদেশ সফরের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। এ দলের পত্রপত্রিকা বিষয়ক মুখপাত্রের ভাষ্যমতে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ওমানে অতঃপর ইথোপিয়াতে এবং অবশেষে চিকিত্সার জন্য তিনি নিউ ইয়র্ক সফরে যাবেন।

-ইয়েমেনের অফিশিয়াল বার্তা সংস্থা জানিয়েছে যে, আব্দুল্লাহ সালেহ চিকিত্সার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন এবং দলের নেতৃত্ব দানের জন্য তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করবেন। ইয়েমেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান ‘আহমাদ আল সুফী’ আল আরাবিয়াকে জানিয়েছেন : আব্দুল্লাহ সালেহ চিকিত্সার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পূর্বে নির্বাচনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে দেশে প্রত্যাবর্তন করতে পারেন!

-রয়টার্সসহ অন্যান্য বার্তা সংস্থা ঘোষণা করেছে যে, সালেহ যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন। কিন্তু ইয়েমেনি পত্রপত্রিকা এ বিষয়ের উপর গুরুত্বারোপ করেছে যে, তিনি এখনও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছেন এবং বর্তমানে তিনি ওমানে রয়েছেন।

-মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, সালেহ শুধুমাত্র তার চিকিত্সা অব্যাহত রাখার জন্য এ দেশে (যুক্তরাষ্ট্রে) সফর করছেন এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী অবস্থান করবেন।

-রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ জানিয়েছেন যে, সালেহ নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে চিকিত্সার নেয়ার বিষয়ে সমর্থন দিয়েছেন বিশেষ শর্তসাপেক্ষে। তিনি যে সকল শর্ত রেখেছেন সেগুলোর মধ্যে রয়েছে যে, পত্রপত্রিকাকে সাক্ষাতকার না দেয়া, যাতে প্রচার মাধ্যমসমূহ এ সফরকে একটি রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে ব্যবহারে সুযোগ না পায়।#